রাজধানী ডেস্ক
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতায় খিলক্ষেত এলাকার কয়েকটি অঞ্চল নিয়ে নতুন একটি ওয়ার্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও উচ্চ আদালতের নির্দেশনার পর বিষয়টি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
সবকিছু ঠিক থাকলে টানপাড়া, নিকুঞ্জ, খাপাড়া, নামাপাড়া, কুড়াতলী ও লেকসিটি এলাকা নিয়ে নতুন ওয়ার্ড গঠন করা হতে পারে।
এলাকাবাসীর দাবি, বর্তমান ওয়ার্ড বিভাজনে জনসংখ্যা ও ভোটার সংখ্যায় বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা রয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের পক্ষে হাইকোর্টে রিট করা হলে আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
এর পর নির্বাচন কমিশন ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি কার্যক্রম শুরু করেছে।
নির্বাচন কমিশনের এক চিঠিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার আইনের আলোকে জনসংখ্যা বিবেচনায় ওয়ার্ড সীমানা পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি পর্যালোচনায় রয়েছে।
নতুন ওয়ার্ডের নম্বর নিয়ে এলাকাজুড়ে আলোচনা চলছে। স্থানীয়দের একটি অংশের ধারণা, এটি ‘৯৬ নম্বর ওয়ার্ড’ হতে পারে। কারণ রাজনৈতিক দলগুলোর সাংগঠনিক কাঠামোয় এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই ওই নামে পরিচিত।
তবে প্রশাসনিক হিসাবে বর্তমানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৫৪টি সাধারণ ওয়ার্ড রয়েছে। সে হিসেবে নতুন ওয়ার্ডের নম্বর ৫৫ বা ৫৬ হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, নম্বর নয়—তাদের মূল দাবি একটি স্বতন্ত্র ও কার্যকর ওয়ার্ড গঠন।
খিলক্ষেত ও আশপাশের এলাকাগুলো রাজধানীর দ্রুত বর্ধনশীল আবাসিক ও বাণিজ্যিক অঞ্চলে পরিণত হলেও নাগরিক সুবিধা ও জনপ্রতিনিধিত্বে দীর্ঘদিন ধরে পিছিয়ে রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সমাজকর্মী জাহিদ ইকবাল বলেন, নতুন ওয়ার্ড গঠিত হলে এটি শুধু প্রশাসনিক পরিবর্তন হবে না, বরং খিলক্ষেতবাসীর দীর্ঘদিনের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার পথ খুলে দেবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত নগরায়ণের কারণে ঢাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে জনসংখ্যার ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। তাই বাস্তব জনসংখ্যা ও ভোটার সংখ্যার ভিত্তিতে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস সময়োপযোগী উদ্যোগ।